The Latest

২০১২ সালে ওভারি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন মনীষা। এরপর টানা এক বছর মরণঘাতী ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে পুরোপুরি সুস্থ হন তিনি। ক্যান্সারজয়ী নেপালি বংশোদ্ভূত অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা 'সিতারে' নামক ছবির মাধ্যমে পুনরায় বলিউডে ফিরতে যাচ্ছেন।

মনীষা এখন ছবির চিত্রনাট্য পড়ছেন বলে জানা গেছে। অভিনয়শিল্পীদের জীবনী নিয়েই এ ছবির চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে। এতে বলিউডের গ্লামারস জগতের অনেক অজানা তথ্য তুলে ধরা হবে। ছবিটিতে মনীষা একজন চিত্রনায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করবেন বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ৪৩ বছর বয়সী মনীষা বলেন, 'আমি দীর্ঘদিন পর এ ছবির মাধ্যমে বলিউডে ফিরতে যাচ্ছি। তাই ছবিটিতে নিজেকে নতুনরূপে উপস্থাপন করতে চাই। যা দেখে দর্শকরা সত্যিই মুগ্ধ হবেন।
সূত্রটি আরো জানিয়েছে, মনীষা দীর্ঘদিন পর নিজের সৌন্দর্য ঝালাই করে নিতে পুনরায় শরীরচর্চা শুরু করেছেন। খাদ্যাভাসেও ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন তিনি। তাছাড়া নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিচ্ছেন। চলতি বছরের শেষের দিকে ছবিটির শুটিং শুরু হবে বলে জানা গেছে।
 

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে রামগোপাল ভার্মার 'ভূত রিটার্নস' ছবিতে তাকে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল।


মিশন ইমপসিবল খ্যাত হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজের সাবেক স্ত্রী, হলিউড অভিনেত্রী কেটি হোমস নতুন প্রেমে মজেছেন। তিনি সুইডিশ অভিনেতা আলেকজান্ডার স্কারসগার্ডের সঙ্গে প্রেম করছেন। এ জুটি এখন চুটিয়ে অভিসার করছেন।
গত বছর 'দ্য গিভার' ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ৩৫ বছর বয়সী কেটি ও ৩৭ বছর বয়সী আলেকজান্ডারের মধ্যে দারুণ সখ্য গড়ে ওঠে। ছবির সেটে প্রায়ই খুনসুটিতে মেতে উঠতেন তারা। বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করলেও ছবির সেটের কারোরই নজর এড়াতে পারেননি কেটি ও আলেকজান্ডার।
শুধু তাই নয়, ছবির শুটিং শেষ হওয়ার পরও একে অন্যের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন কেটি ও আলেকজান্ডার। সম্প্রতি এ জুটিকে নিউইয়র্কের অভিজাত একটি হোটেলে একসঙ্গে ডিনার করতে দেখা গেছে। অনেক রাত পর্যন্ত তারা হোটেলে অবস্থান করেন।
এ প্রসঙ্গে কেটির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানান, কেটি-আলেকজান্ডার দুজনই নিঃসঙ্গ। তাই তারা পরস্পরের সঙ্গ দারুণ উপভোগ করছেন। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, সায়েন্স ফিকশনধর্মী 'দ্য গিভার' ছবিটি ১৫ আগস্ট মুক্তি পাচ্ছে। অচিরেই ছবির প্রচারণার কাজে সামনে আরো ঘন ঘন একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেতে যাচ্ছেন তারা।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের এপ্রিলে টম ক্রুজের জীবনে আসেন কেটি। এক বছর বাদে ২০০৬ সালের এপ্রিলে কন্যা সুরির জন্ম দেন কেটি। এর ছয় মাস পর ইতালিতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কেটিকে বিয়ে করেন ক্রুজ। স্বামী-সন্তানকে নিয়ে সুখেই সংসার করছিলেন। কিন্তু ২০১২ সালে বিচ্ছেদের আবেদন করে সবাইকে চমকে দেন তিনি। ক্রুজের ৫০তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক দিন আগে কেটি এ কান্ড ঘটান।

সুত্র: ডেইলি মেইল
বিপাশা বসুর মতো অনেক বাঙালিই বলিউডে প্রবেশের পর আগুন জ্বালিয়েছেন পুরুষের মনে। তবে এবার সেই তালিকায় অপর এক বাঙালি ললনার নাম যোগ হতে যাচ্ছে। বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করার পর প্রোমিতা বণিক এবার বলিউডে পা রাখার জন্য একেবারেই তৈরি।


নিজেকে প্রমাণ করতে হট ফটোশুটও করিয়েছেন তিনি। প্রোমিতার এই ছবিগুলি এতটাই আকর্ষনীয়, যা দেখে বোঝাই যাচ্ছে ছবিতে অন্তরঙ্গদৃশ্যে অভিনয় করতে তার কোন আপত্তি নেই। ইতিমধ্যে বাংলা ধারাবাহিকেও কাজ করেছেন প্রোমিতা। তবে ডেইলিসোপের পর এবার তিনি এমন কিছু করতে চান যাতে অনেক বেশি কিছু শেখা যায়।


বলিউডে এখন যৌনতার ছোঁয়া চারদিকে। তাই এই ফটোশুট যে পরিচালক প্রযোজককে আকর্ষণ করবে সেটা বোঝাই যাচ্ছে। যদিও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও ছবিগুলি আপলোড করেছেন তিনি। তবে এবার এটাই দেখার বলিউডে নতুন কি জাদু দেখাতে পারেন প্রোমিতা।




































































































































ইয়ে জওয়ানি হ্যা দিয়ানিসিনেমায় খুব ছোট্ট ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু তার খোলা মেলা পোশাকে আবেদনময়ী উপস্থাপন পুরুষ দর্শকদের মনে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। দীপিকা পাডুকোনের পাশে সমানে টক্কর দিয়েছিলেন ইভলিন শর্মা নিজের সেক্স অ্যাপিলে।

ইভলিন শর্মা মডেলিং, অভিনয়ের পর সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করলেন। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অন্যধারার গানের মধ্যে দিয়ে ইভলিন নিজের সঙ্গীত প্রতিভাকেও এবার পৌঁছে দেবেন দর্শকদের কাছে। অসম্ভব উচ্ছসিত ইভলিন শর্মা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন,"গানের প্রতি আমার সবসময় অন্যধরনের একটা টান ছিল। কিন্তু গান ভাললাগার সেই ইচ্ছে এইভাবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অ্যালবম তৈরির সুযোগ করে দেবে তা আশা করিনি।"

তিনি আরও জানান যে, এই প্রথম ভারতের দর্শকরা ইভলিন শর্মাকে একদম নতুন রুপে দেখতে পাবেন। ইন্দো-মার্কিনী ব্রুকলিন শান্তির সঙ্গে যৌথভাবে অ্যালবামে কাজ করেছেন ইভলিন। ব্রুকলিন ফ্রম সিডনি উইথ লাভসিনেমার সেটে প্রথম আলাপ হয় ইভলিনের সঙ্গে এবং তখনই তিনি এই নায়িকার সঙ্গীত প্রতিভার সাথে পরিচিত হন।








ইভলিন কেবলমাত্র গান গেয়ে ক্ষান্ত থাকেননি। ইভলিন স্বয়ং নিজের জীবনের জার্নি নিয়ে সামথিং বিউটিফুলগানটি লিখেছেন। এই ভিডিওটি নিউ ইয়র্কে শুটিং করা হয়েছে এবং আগামী অগস্ট মাসে মুক্তি পাবে অ্যালবমটি।
ইংল্যান্ডে ব্যাটে রান একদম পাচ্ছেন না তো কী, ভিরাট কোহলি বেশ আছেন। লন্ডনের রাস্তায় ভিরাট কোহলির সঙ্গে দেখা গেল বলিউডের নায়িকা আনুশকা শর্মাকে। কোহলির সঙ্গে হাসতে হাসতে শপিং করতে যাওয়া আনুশকা পড়েছিলেন সাদা কালো রঙের স্কার্ট।

এমনও শোনা যাচ্ছে লন্ডনের এক শপিং মল থেকে প্রেমিকাকে সবচেয়ে দামি স্মার্টফোন কিনে দিয়েছেন কোহলি। লন্ডনের এক ওয়েবসাইটের খবর অনুযায়ী ভিরাট আর আনুশকা বেশ সুন্দর সময় কাটাচ্ছেন ইংল্যান্ডে।


লর্ডসে খেলতে ভারতীয় দল যে হোটেল উঠেছে, সেই একই হোটেলে উঠেছেন আনুশকাও। লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে ভিরাট কোহলির ব্যাটিংয়ের সময় আনুশকাকেও মাঠে বসে হাততালি দিতেও দেখা গেছে। বিসিসিআই আগেই ভিরাটকে ইংল্যান্ড সফরে আনুশকার সঙ্গে সময় কাটাতে অনুমতি দিয়েছে।
সম্প্রতি ব্যাংকক থেকে ফিরলেন ববি। আলাপের শুরুতেই ব্যাংককের গল্প। একসঙ্গে দুটি ছবির শুটিং করে এসেছেন সেখানে। সারা দিন শুটিং শেষে রাতে শপিং করাটা ছিল প্রতিদিনের কাজ। মেকআপ তুলে ফ্রেশ হয়ে ঘুমাতে ঘুমাতে ভোর হয়ে যেত। কিন্তু এ নিয়ে পরিচালক-প্রযোজকের কোনো আপত্তি ছিল না। একটু বেলা করেই বিছানা ছাড়তেন। তবু সফরটা শতভাগ উপভোগ করতে পারেননি ববি। ব্যাংককের গড় তাপমাত্রা প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সেটাই কাল হলো। একটু পর পর মেকআপ গলে যেত। মেকআপ ঠিক রাখার জন্য মেকআপম্যানের দ্বারস্থ হতে হতো একটু পর পরই। এ নিয়ে কম হাসিঠাট্টা করেননি তাঁরা। বলেন, "শট দিতে দিতে পাশ থেকে হয়তো মেকআপম্যান বলছেন, 'কাট কাট' মেকআপ ঠিক নেই! বুঝুন ব্যাপারটা। একসঙ্গে সবাই তখন হেসে উঠতাম।"
টাঙ্গাইলে বসে ব্যাংককের গল্প করছেন ববি। চন্দন চৌধুরীর 'ফ্রেন্ডশিপ' ছবির শুটিং করছেন টাঙ্গাইলে। ছবিতে তাঁর সহশিল্পী আনিসুর রহমান মিলন। মিলনের সঙ্গে এটি তাঁর তিন নম্বর ছবি। এর আগে ইফতেখার চৌধুরীর 'দেহরক্ষী' 'ওয়ানওয়ে' ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন তাঁরা। দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াটাও বেশ ভালো। ববি বলেন, 'মিলন ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করাটা আমি বেশ উপভোগ করি। ভালো একজন অভিনেতা। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখারও আছে। সহশিল্পী হিসেবে তিনি আমাকে বেশ সাহায্য করেন।

এই ঈদে ববি অভিনীত 'হিরো : দ্য সুপারস্টার' মুক্তি পেতে যাচ্ছে। বদিউল আলম খোকনের এই ছবি নানা কারণে আলোচনায়। একে তো শাকিব খান প্রযোজিত প্রথম ছবি, তার ওপর অপুর সঙ্গেও প্রথমবারের মতো কাজ করলেন ববি। অপু-ববির একসঙ্গে কাজ করা নিয়ে অনেক 'গসিপ' মিডিয়ায়। দুই নায়িকা নাকি সারাক্ষণ ছবির সেটে ঝগড়া করেই কাটিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ববির কথায় সে রকম কোনো ইঙ্গিতই পাওয়া গেল না। তাঁর মতে, 'অপু অনেক ভালো অভিনেত্রী। চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তাঁর সঙ্গে প্রতিযোগিতা কিংবা হিংসা করার মানসিকতা কখনোই আমার নেই। বরং ছবির শুটিংয়ে যখনই আমরা একসঙ্গে হয়েছি মজা করেছি অনেক। আমি অপুর কাছে অনেক বিষয়ে জানতে চেয়েছি, তিনিও খুব সুন্দর করে উত্তর দিয়েছেন। সত্যি বলতে, অপু জানেন অন্যদের কিভাবে সম্মান করতে হয়। দূর থেকে সবাই অপুকে যেটা ভাবে আসলে অপু তা নন।'
ববির মতো অপুও নাকি একই কথা বলেন সবাইকে!

বাপ্পির সঙ্গে 'আই ডোন্ট কেয়ার' নিয়েও ভীষণ উচ্ছ্বসিত ববি। প্রথমবারের মতো বাপ্পির সঙ্গে কাজ করলেন। তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও বেশ ভালো বলে জানালেন।


ববির হাতে এ মুহূর্তে শফিক হাসানের 'স্বপ্ন ছোঁয়া', ইফতেখার চৌধুরীর 'অ্যাকশন জেসমিন' 'ওয়ানওয়ে'সহ বেশ কয়েকটি ছবি আছে। নতুন আরো বেশ কয়েকটি ছবির প্রস্তাব থাকলেও খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না। শুধু ব্যস্ততার কারণেই যে নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন না, তা কিন্তু নয়! আছে আরেকটা কারণও। ঈদে মুক্তি পেতে যাওয়া 'হিরো : দ্য সুপারস্টার' নিয়ে বাজি ধরেছেন ববি। তিনি মনে করেন, এই ছবি বক্স অফিস হিট করবেই। আর তখন হিসাব-নিকাশটা আবার নতুন করে শুরু করবেন। বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই বুঝেশুনে চলতে ভালো লাগে। আর ফিল্মে তো হিসাব-নিকাশ ছাড়া এক পা-ও ফেলা ঠিক না। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। আমি সব সময় সংখ্যায় নয়, মানে বিশ্বাসী। আশা করি, আমার ভক্তরাও সেটা ভালো করে জানেন।'


অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহার একমাত্র মেয়ে সোনাক্ষী- এটা অনেকেই জানেন। কিন্তু জানেন কি, সোনাক্ষীর দুই যমজ ভাই আছে। লব সিনহা ও কুশ সিনহা নামের দুই ভাই তাঁর চার বছরের বড়।

অভিনয়ে আসার আগে সোনাক্ষী ছিলেন পোশাক ডিজাইনার। ২০০৫ সালে 'মেরা দিল লেকে দেখো'তে প্রথমবার ডিজাইনারের কাজ করেন। ২০০৮-০৯ সালে ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে র‌্যাম্পেও হাঁটেন তিনি।


শারীরিক গড়নে বেশ মোটা ছিলেন সোনাক্ষী। তাঁকে বলিউডে নায়িকা করার কথা অনেকে চিন্তাই করতে পারেননি। কিন্তু সালমান খান ২০১০ সালে 'দাবাং' ছবিতে তাঁকেই নায়িকা করলেন। সে জন্য অবশ্য সোনাক্ষীকে ২০ কেজি ওজন কমাতে হয়েছিল।
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের স্মৃতি বিজড়িত পৈতৃক ভিটে দেখতে দুই কন্যা রাইমা ও রিয়া সেনকে নিয়ে শিগগিরই বাংলাদেশের পাবনায় আসবেন ভারতের তৃণমূল সংসদ সদস্য মুনমুন সেন৷ পাবনায় সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের কর্মকর্তারা জানান, আগামী ডিসেম্বরেই তাদের পাবনায় আসার সম্ভাবনা বেশি। ওই সময় পাবনায় সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র উৎসব হওয়ার কথা রয়েছে।

মায়ের পৈতৃক বাড়ি জামাতের দখলমুক্ত হওয়ার ঘটনায় ১৭ জুলাই দিল্লিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মুনমুন বলেছেন, "বাড়িটি উদ্ধার করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমাদের পরিবারের কৃতজ্ঞ৷ ওই বাড়িতে মায়ের নামে যে সংগ্রহশালা তৈরি হচ্ছে তাতে আমার পাশাপাশি দুই বাংলার সুচিত্রা অনুরাগীরা সবাই খুবই খুশি৷ শুটিং থেকে দুই মেয়ে ফিরলে পাবনায় যাওয়ার দিন ঠিক করব৷ সংগ্রহশালা তৈরি শুরুর আগেই পাবনা যাওয়ার চেষ্টা করবো৷"


কলকাতার সংবাদ প্রতিদিন পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক কৃষ্ণ কুমার দাস ১৭ জুলাই রাতে মুনমুন সেনে সঙ্গে দেখা করে বাড়ি উদ্ধার এবং পাবনায় সুচিত্রা সংগ্রহশালা সম্পর্কে কথা বলেন। এ সময় মুনমুন সেন তার দুই মেয়েসহ পাবনায় আসার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি পাবনার সংগ্রহশালায় মায়ের কিছু দুর্লভ ছবি এবং ব্যবহৃত সামগ্রী দেওয়ার ইচ্ছা আছে বলে জানান মুনমুন৷ কৃষ্ণ কুমার দাস এর আগে দু'বার পাবনায় এসেছিলেন এবং সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন।

পাবনার গোপালপুর মহল্লায় ১৮ জুলাই সরকারিভাবে সুচিত্রা সেনের পৈতৃক ভিটের দখল নিয়েছে বাংলাদেশের ভূমি রাজস্ব দফতর৷ জমির পরিমাণ মোট ২২.২৫ শতক৷ ওইদিন নিজে হাতে সরকারি বোর্ড দিয়ে তালা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন৷ তিনি বলেন, ’উচ্চ আদালতের রায়ের নির্দেশে আমরা অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি সরকারের দখলে নিতে পেরেছি। এর মধ্য দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হলো। বাড়িটি এখন সম্পূর্ণ দখলমুক্ত। মহানায়িকার স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি আপাতত তালাবন্ধ থাকছে৷ থাকবে পুলিশ প্রহরাও৷ ঈদের পর পাবনার আপামর জনসাধারণকে নিয়ে একটি সভা করে তাদের মতামত নিয়ে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশ‍ালা সরকারের উচ্চমহলকে অবহিত করে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

৩৩ বছর ধরে বাড়িটি জামায়েতের শাখা সংগঠন ইমাম গাজ্জালির দখলে ছিল৷ শেখ হাসিনা দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বাড়িটি উদ্ধারের জন্য সরকার ও পাবনার সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ লড়াই শুরু করে৷ মহানায়িকার মৃত্যুর পর বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রী ও নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর কলকাতায়মুনমুনের সঙ্গে দেখা করে বাড়ি উদ্ধারের বিষয়ে তাকে আশ্বস্ত করেন৷
ঢাকায় ফিরে সংসদে আসাদুজ্জামান নূর ঘোষণা করেন, ওই বাড়িটি উদ্ধার করে সুচিত্রা সেন সংগ্রহশালা হবে৷ মন্ত্রীর ঘোষণার পর বাড়িটি পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলি লাকী এবং সরকারি কমকর্তারা৷

বাড়িটি অবিকৃত রেখে সংগ্রহশালা কীভাবে হবে তা নিয়ে সরকার খসড়া তৈরি করেছে৷ আসাদুজ্জামান নূরের ইচ্ছা- সংগ্রহশালার শিলান্যাস ও উদ্বোধন দুটোতেই থাকুন মুনমুন, রাইমা ও রিয়া৷

বছর দশেক ধরে বাড়িটি উদ্ধারের জন্য লাগাতার লড়াই করেছেন সুচিত্রা সেন সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ রামদুলাল ভৌমিক। তার পাশাপাশি উচ্ছ্বসিত ও খুশি পাবনা গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী-শিক্ষিকারা৷ ওই স্কুলের ছাত্রী ছিলেন মহানায়িকা৷ উদ্ধারের খবরে প্রতিদিনই সুচিত্রা সেনের বাড়িটি দেখতে মানুষের ভিড় বাড়ছে। ডাঃ রাম দুলাল ভৌমিক বলেন, সুচিত্রা সেনের বাড়িটি দখলমুক্ত হওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি। আমাদের আন্দোলন সফল হয়েছে। এখানে এখন একটি আন্তর্জাতিক মানের সংগ্রহশালা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।

১৯৫১ সালের মাঝামঝি সুচিত্রা সেনের বাবা করুনাময় দাসগুপ্ত সপরিবারে পাড়ি জমান কলকাতায়। এরপর এই বাড়িতে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর থেকে বাড়িটিতে সরকারি বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বাস করতেন। পাবনা শহরের গোপালপুর মৌজার এসএ-৯৯ খতিয়ানভূক্ত ৫৮৭-এসএ দাগের ০.২১২৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত সুচিত্রা সেনের এই পৈত্রিক ভিটা ১৯৮৭ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সাইদুর রহমানের সহযোগিতায় জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুস সোবাহানসহ অন্যান্যরা বাড়িটি ইজারা নেয়। এখানে তারা ইমাম গাজ্জালী ইনস্টিউট নামে কিন্ডারগার্টেন স্কুল গড়ে তোলেন।
সে সময় বাড়িটির মূল্যবান ফলজ ও বনজ বৃক্ষ কেটে ফেলে দখলকারীরা। এরশাদ সরকারের পতনের পর থেকে বাড়িটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিল পাবনাবাসী। একই সঙ্গে বাড়িটিতে সূচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠার দাবি করেন স্থানীয় প্রগতিশীলরা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১২ জুন পাবনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্টকে উচ্ছেদের নোটিশ দেন। ওই বছরের ২২ জুন এ নোটিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্ট। ২০১১ সালে এ রিট খারিজ এবং বাড়িটি দখলমুক্ত করে সেখানে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা স্থাপনের আদেশ দেন উচ্চ আদালত। এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদনের অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করে ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্ট। গত ৪ মে এ লিভ টু আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে ইমাম গাজ্জালী ইনস্টিটিউট ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক আবিদ হাসান দুলাল জানান, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধশীল। তাই উচ্চ আদালতের রায় মেনে নিয়ে দখল ছেড়ে দিয়েছেন।